এসআই সন্তোষ দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলোচিত অভিযুক্ত মাহদি হাসান ইন্ডিয়াই গ্রেফতার,পাঠানো হচ্ছে দেশে.
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিওতে বলা হচ্ছে, মাহদি হাসান রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করে ইউরোপের একটি দেশের ভিসার জন্য আবেদন করেছেন। দাবি অনুযায়ী, তাকে দিল্লির কনট প্লেস এলাকার ভিএফএস গ্লোবাল আবেদন কেন্দ্রে দেখা গেছে, যেখানে তিনি বায়োমেট্রিক (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) প্রদান করেন। কিছু পোস্টে আরও বলা হয়েছে, তিনি পর্তুগাল দূতাবাস সংশ্লিষ্ট ভিসা প্রক্রিয়ার আশপাশেও উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া নতুন করে আরও একটি দাবি সামনে এসেছে—ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করেছে এবং দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারত বা বাংলাদেশের কোনো সরকারি সংস্থা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘Leo Chyper’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে মাহদি হাসানের উপস্থিতি নিয়ে নানা দাবি করা হয়েছে। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত অডিও ভিন্ন উৎস থেকে সংযোজন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে, যা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এদিকে, বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে মাহদি হাসানকে গ্রেফতারের আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিছু রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের সঙ্গে মাহদি হাসানের কথোপকথনের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তিনি আলোচনায় আসেন। ওই ভিডিওতে তাকে পুলিশ স্থাপনায় হামলা এবং এসআই সন্তোষ দাসকে হত্যার বিষয়ে বক্তব্য দিতে শোনা যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে তার গ্রেফতারের প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা থানার সামনে বিক্ষোভ করেন এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানানো হয়।
বর্তমানে মামলার প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় মাহদি হাসান কীভাবে দেশত্যাগ করেছেন—এমন প্রশ্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে। তিনি আদৌ ভারতে আছেন কিনা, থাকলে কীভাবে সেখানে গেছেন এবং কোনো ধরনের ভিসা পেয়েছেন কিনা—এসব বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকারকর্মী ও সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে, অনেকেই আশঙ্কা করছেন—যদি মাহদি হাসান বিদেশে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন, তবে বিচার প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত তদন্ত, তার অবস্থান নিশ্চিতকরণ এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।



%20.png)
No comments: